মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী স্বজনেরা অভিযোগ তোলেন, ২০২৩ সালের শেষের দিকে একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শাওন আহম্মেদ গোলাপ চারজন তরুণকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হন অভিযুক্তরা এবং পরবর্তীতে পাওনা অর্থ ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানান।
প্রতারণার শিকার রেজাউল করিম রকি, সুরুজ আলী, সুমন ও লালু ফকিরের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অর্থ লেনদেনের যাবতীয় লিখিত দলিল ও প্রমাণ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। পাওনা অর্থ দাবি করায় অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। স্থানীয়ভাবে একাধিক সামাজিক বৈঠকে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি। বাধ্য হয়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদ, সেনাবাহিনী ক্যাম্প এবং পরবর্তীতে বিচারালয়ের দ্বারস্থ হন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত কান্নাজড়িত স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, খোয়ানো অর্থ ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো তাদের মিথ্যা অপহরণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন নিয়ে ফেরার পথে অভিযুক্ত পক্ষটি একটি সাজানো অপহরণের নাটক তৈরি করে তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় বর্তমানে তাদের দুজন স্বজন কারাবন্দী রয়েছেন। হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
তবে নিজেদের ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট চারজন মূলত বৈদেশিক কর্মসংস্থান দপ্তরের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে প্রতারিত হয়েছেন। টাকা জমাদানের সময়ে তারা সেখানে উপস্থিত থাকলেও কোনো অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার সাথে যুক্ত নন।
বিষয়টি নিয়ে খুবজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনি রুল ইসলাম দোলন জানান, পূর্বে এক সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তরা অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের প্রাপ্য টাকা বুঝে পেয়েছে কি না তা তার জানা নেই।