বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন ও সুপারিশ হাতে পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৫তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী গত ১৬ বছরের প্রশাসনিক রদবদল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই দীর্ঘ সময়ে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগে ৩৯ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে রাখা হয়েছিল।
বিগত সরকারের আমলে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং সরকারি চাকরিতে যোগ্যদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এই তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বর্তমান প্রশাসন। মূলত প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।