শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিশ্বে তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ৩৩তম দিনে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপর।

বিশ্বে তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ৩৩তম দিনে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপর। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তেল ফুরিয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটির জ্বালানি চাহিদার ৯৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। হরমুজ প্রণালিতে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোতে তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে খালি হাতে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে আসায় সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি রেশনিং বা সীমিত ব্যবহারের পথে হাঁটছে। ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকারি তথ্যমতে, দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার 'ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে' অপরিশোধিত তেলের মজুত দিয়ে বড়জোর দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। এছাড়া ডিজেল ও অকটেনের মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে, যা গত মাসের শুরুতে ছিল মাত্র ৯ দিনের চাহিদার সমান।

সংকট উত্তরণে সরকার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এমনকি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়েও অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই, তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ভিন্ন এক ভয়াবহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।