বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
থানায় অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা ও বিশৃঙ্খলার এই ঘটনায় এর আগেই ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৩০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (ওসি) মাসুদ খান জানান, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ অভিযানে নামে। অভিযানে রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তারসহ সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাঈম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার এবং তানজিলা আক্তারসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দায়েরকৃত মামলায় বেআইনি সমাবেশ করা, দাঙ্গা বাধানো, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি, পুলিশ সদস্যদের মারধর, হত্যাচেষ্টা, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ভাঙচুর, চুরি, হুমকি প্রদান ও দলবদ্ধভাবে অপরাধ ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের ধরতেও তল্লাশি জারি রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় চুরির একটি মামলায় রিয়াজ ফকির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই দিন রাতে থানা হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে জখম হন। চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে গতকাল বিকেলে আকস্মিকভাবে রিয়াজের মৃত্যুর মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় উৎসুক জনতা একত্রিত হয়ে থানায় চড়াও হন এবং ভাঙচুর চালান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিমসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য এবং বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনসহ অন্তত ১২ জন জখম হন। গুরুতর আহত এএসআই হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফারহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল-আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তারা স্থানীয় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।