সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা, শহরে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

বাসভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির মাধ্যমে জ্বালানির দামসহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনা করা হয়। তবে এবার জ্বালানি ছাড়া অন্য কোনো ব্যয় হিসাবের মধ্যে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ডিজেলের দাম যতটা বেড়েছে, মূলত সেই অনুপাতে বাসভাড়া সমন্বয় করা হবে।

দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা, শহরে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর দূরপাল্লা ও নগর পরিবহনের বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার পথে প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ২০ পয়সা এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ১৮ পয়সা বাড়তে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তাবটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, ভাড়া কতটা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন ভাড়া কার্যকর করা হবে।

বাসভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির মাধ্যমে জ্বালানির দামসহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনা করা হয়। তবে এবার জ্বালানি ছাড়া অন্য কোনো ব্যয় হিসাবের মধ্যে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ডিজেলের দাম যতটা বেড়েছে, মূলত সেই অনুপাতে বাসভাড়া সমন্বয় করা হবে।

সাধারণ হিসাবে, ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১ পয়সা বাড়ে। গতকাল রোববার রাতে সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন। বৈঠকে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং শহরের বাসের ভাড়া ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন দাম অনুযায়ী জ্বালানি কেনার পরও ভাড়া নির্ধারণে দেরি হলে মালিক-শ্রমিকেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন। এতে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, আগেরবার শুধু জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে যন্ত্রাংশসহ পরিবহনের অন্যান্য খরচও বেড়েছে। সেসব খরচ বিবেচনায় নিয়ে আরও ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তাঁরা শুধু জ্বালানির দাম বাড়ার অনুপাতে ভাড়া সমন্বয়ে একমত হয়েছেন। দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারিরও দাবি জানান তিনি।

বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও টেম্পুসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ডিজেলে চলে। তবে মালবাহী যানবাহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়াও সরকারি হারের আওতায় নেই। এসব যানবাহনের ভাড়া মালিক ও শ্রমিকেরা নিজেদের মতো করে নির্ধারণ করেন।

অন্যদিকে নন-এসি বাস এবং নগর পরিবহনের বাস ও মিনিবাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত হার মানা হয় না। জ্বালানির দাম কমার পর ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত এপ্রিলেও ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার। তখন বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং মিনিবাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা।

দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে নির্ধারিত ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা। তবে অনেক নন-এসি দূরপাল্লার বাসে আসন কমিয়ে ৪০ বা তার কম করা হয়েছে। এসব বাসে তুলনামূলক বেশি ভাড়া নেওয়া হয়। এর সঙ্গে যাত্রাপথে সেতু ও সড়কের টোলও যুক্ত হয়।

ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি কিলোমিটারে ১৮ ও ২০ পয়সা বাড়ানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে আলোচনার সময় তা কিছুটা কমতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।