রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী

বেইজিংয়ের সাথে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সুবাদে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক গণমাধ্যম খাতে এক যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। চীন সরকারের সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চার-চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর নিজের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।

চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বেইজিংয়ের সাথে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সুবাদে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক গণমাধ্যম খাতে এক যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। চীন সরকারের সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চার-চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর নিজের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক এই রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক গণমাধ্যম প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। বেইজিংয়ের মতো প্রযুক্তিগতভাবে শীর্ষস্থানীয় একটি দেশের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়া তথা অনলাইন গণমাধ্যম ও আধুনিক তথ্য সম্প্রচার কাঠামো এক নতুন ও গুণগত যুগে প্রবেশ করবে।

সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সর্বমোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সম্পাদিত হয়। এর মধ্যে দুই দেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে সরাসরি ১৩টি স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার অন্তর্ভুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৪টি বিশেষ স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্যমন্ত্রী বেইজিং সফরের উচ্চমূল্যায়ন করে জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, প্রধানমন্ত্রী এবং পার্লামেন্টের স্পিকারের মতো দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল যে অভাবনীয় সম্মান ও আন্তরিকতা পেয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।

চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, বেইজিংয়ের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং স্বয়ং বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সম্পূর্ণ নতুন যুগে প্রবেশের সাথে তুলনা করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে যা আরও বিকশিত হয়েছিল, বর্তমান নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সেই বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব এখন আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় স্তরে উন্নীত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন নিজের প্রথম দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন অভিমুখে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের চীন সফরের প্রথমাংশে তিনি দালিয়ান শহরে আয়োজিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে বেইজিং সফরে গিয়ে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও ড. মাহাদী আমিন।