চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে পড়েছেন মৌলভীবাজারের চা বাগান সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় সময়মতো কাঁচা চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পাতা নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জেলার প্রতিটি চা বাগানে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি প্রায় ৯ ঘণ্টা কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের পাশাপাশি উৎপাদনেও ব্যাঘাত ঘটছে।
রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাফ হাউজে পড়ে থাকছে কাঁচা চা পাতা। নির্ধারিত সময়ে প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি পাতা নষ্ট করে ফেলতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনগরের ইটা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক আকাশ হোসেন বলেন, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থায় কারখানা চালু করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। এতে উৎপাদনের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাতার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের কারখানা শ্রমিক রামগোপাল গৌড় বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কারখানার যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা চালু রাখতে ১০০ থেকে ২০০ লিটার ডিজেল পোড়াতে হচ্ছে।
একই বাগানের প্রধান কারখানা করণিক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে কারখানার কার্যক্রম থেমে যায়। এতে ট্রাফ হাউজে রাখা কাঁচা পাতার বড় ধরনের ক্ষতি হয়। প্রতিদিন মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বাগানে হাজার হাজার কেজি চা পাতা নষ্ট হচ্ছে, যেগুলো শেষ পর্যন্ত ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।
রাজনগরের করিমপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদ বলেন, সবুজ চা পাতা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি উপকরণ। নির্দিষ্ট সময়ে তা ম্যানুফ্যাকচারিং পর্যায়ে নিতে না পারলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যয় ও সময়—দুটিই বাড়ছে, একই সঙ্গে পাতার গুণগত মান ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ন্যাশন্যাল টি কোম্পানির ডিজি এম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিনই তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ চা পাতা ক্ষতিগ্রস্ত ও নষ্ট হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।