গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে, আলী আরমান, শাহজাহান ও সোনিয়া।
শুক্রবার অপরাহ্নে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থিত র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জের মধ্যচর দক্ষিণ বালুরচর এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে উক্ত কারখানার সন্ধান মেলে।
র্যাব জানায়, অভিযানে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যমানের উৎপাদিত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে প্রস্তুতপ্রণালীতে ব্যবহৃত বিপুল কাঁচামাল, ৫টি মোবাইল ফোন এবং ১টি ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়।
বাংলাদেশে ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে আনা হয় কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান জানান, দেশীয় বাজার তথা ঢাকা থেকেই ইয়াবা তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করা হচ্ছিল। দেশে কোনো ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান মেলার ঘটনা এটিই প্রথম। কেরানীগঞ্জে উৎপাদিত এসব মাদক ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হতো। ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো মূলত শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য বৈধ হলেও, চক্রটি সেসব রাসায়নিক একত্র করে ইয়াবা তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করে। তারা মূলত কামরাঙ্গীরচর, পুরান ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আলমগীরের বিরুদ্ধে রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় পূর্বে দায়ের হওয়া মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেরা বিভিন্ন রাসায়নিক ও উপাদান সংগ্রহ করে নিয়মিত ইয়াবা তৈরি করে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, প্রায় ২ বছর ধরে তারা কেরানীগঞ্জের এই আস্তানায় ইয়াবা তৈরি করে আসছিল। তবে কেরানীগঞ্জসহ দেশের অন্যত্রও এমন কারখানা গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে র্যাব। কাঁচামালের যোগানদাতা ও নেপথ্যের কারিগরদের চিহ্নিত করতে আসামিদের রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানানো হয়।