শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি একে শান্তি, ধৈর্য এবং মেধার জয় হিসেবে অভিহিত করেন। হাসপাতালের শয্যা থেকে 'ভিক্টরি' চিহ্ন প্রদর্শিত নিজের এক ছবির পাশাপাশি তিনি দেশের তরুণ সমাজ ও ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যাবতীয় শঙ্কা দূর করে আন্দোলনে সংহতি জানানো সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গক্রমে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের শক্ত দাবিতে সিজেপির ব্যানারে আমরণ অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন অনশন পালনের পর সরকার সংসদে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিশদ পর্যালোচনার আশ্বাস, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অঙ্গীকার এবং প্রশ্নফাঁসজনিত কারণে মানসিক অবসাদে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা দিলে তিনি অনশন ভাঙেন। পদত্যাগের ঘটনা বাস্তবায়িত হওয়ায় এখন জবাবদিহিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের সার্বিক শিক্ষা সংস্কারের পথ সুগম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এই আন্দোলনকারী।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট যৌথ দলগুলোর সঙ্গে সরকারের তৃতীয় দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার পূর্বমুহূর্তে এক্সে দীর্ঘ দুই পৃষ্ঠার এক বিবরণীর মাধ্যমে নিজের সরে দাঁড়ানোর বার্তা জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তীব্র দুঃখ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, পুরো বিষয়টি তাঁর কাছে ব্যক্তিগত কোনো অহংবোধের বিষয় নয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অসন্তোষ ও অনিয়মের পুরো দায়ভার নিজের কাঁধেই গ্রহণ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি কোনো অসাধু চক্র যাতে মেধাবীদের ভবিষ্যৎ বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়েও পুনর্বার জোর দেন।
পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর 'শিক্ষার্থী শক্তি জিন্দাবাদ' ধ্বনিতে উল্লাস প্রকাশ করে সিজেপি। দলটির শীর্ষ উদ্যোক্তা অভিজিৎ দীপক কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেন, এটিই প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল রূপরেখা। সাধারণের অর্জিত ক্ষমতার সঙ্গে কোনো আপস সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন তিনি।