সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রতিবন্ধী যুবককে গলা কেটে হত্যা প্রবাসীর স্ত্রীর

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্রতিবেশী এক নারীকে হেফাজতে নিয়েছে।

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রতিবন্ধী যুবককে গলা কেটে হত্যা প্রবাসীর স্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্রতিবেশী এক নারীকে হেফাজতে নিয়েছে।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্রতিবেশী এক নারীকে হেফাজতে নিয়েছে। আটককৃত নারীর দাবি, নিহত যুবক তাকে জোরপূর্বক লাঞ্ছিত করার আটককৃত নারীর দাবি, নিহত যুবক তাকে জোরপূর্বক লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করায় নিজের আত্মসম্মান ও প্রাণ বাঁচাতে তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার একটি গ্রামীণ এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত এনায়েতুর এবং কাতার প্রবাসী সুমন চৌধুরীর বসতবাড়ি একদম পাশাপাশি অবস্থিত। বেশ কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর তৈরি করা নিয়ে একটি বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। প্রায় এক মাস আগে সুুমন চৌধুরী ছুটিতে দেশে আসার পর এনায়েতুরের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর সাথে অসদাচরণের একটি অভিযোগ তোলেন। তবে এনায়েতুর আংশিক শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সামাজিক সম্মতিতে বিষয়টি সমাধান করে দেন। এই ঘটনার পর চার দিন আগে সুমন চৌধুরী পুনরায় প্রবাসে তাঁর কর্মস্থলে ফিরে যান।

হত্যাকাণ্ডের শিকার এনায়েতুরের মা নেহারা বেগম অভিযোগ করে জানান, তাঁর সন্তান একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই হাতের কবজি এবং আঙুল অবশ থাকায় স্বাভাবিক কাজ করার কোনো সামর্থ্য তাঁর ছিল না। শনিবার সকালে প্রতিবেশী ওই নারী তাঁর ছেলেকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন বলে তিনি দাবি করেন। একই সাথে এই নৃশংস ঘটনার সাথে যুক্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটককৃত নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, এনায়েতুর তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন এবং নিজেকে রক্ষা করতেই তিনি তাকে আঘাত করতে বাধ্য হন। পুলিশ পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।