গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য পদের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়।
আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনে এই সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সরকারের এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর ওই দিন রাতেই সাড়ে ৯টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার চতুর্থ দিনের মতো সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। একপর্যায়ে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেন—এমন খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অবস্থানরত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ব্যবহার করতে হয়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুপুরের দিকে নতুন উপাচার্যের পক্ষে একদল বহিরাগত ব্যক্তি ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘাত বাধে। দুই পক্ষের মধ্যে চলা এই ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী রক্তাক্ত ও আহত হন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ডুয়েট দেশের একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর পাঠদান পদ্ধতি ও প্রশাসনিক কাঠামো অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতা সম্পর্কে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। তাই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে চাপিয়ে না দিয়ে, এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কোনো যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া যৌক্তিক।
একই সঙ্গে ডুয়েটের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দও শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে অভ্যন্তরীণ প্রবীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগের জোর দাবি তুলেছেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নতুন উপাচার্যের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই ডুয়েট ক্যাম্পাসে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ সেই ক্ষোভ প্রকাশ্য রূপ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পাসের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।