বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কার্যক্রম গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে চলে। সাধারণত কলেজে পরিচালনা পর্ষদকে গভর্নিং বডি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি বলা হয়। শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে এসব কমিটি গঠন করা হয়।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রবিধানমলা চূড়ান্ত না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কার্যক্রম গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে চলে। সাধারণত কলেজে পরিচালনা পর্ষদকে গভর্নিং বডি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি বলা হয়। শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে এসব কমিটি গঠন করা হয়।

সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক

২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রবিধানমালা সংশোধন করা হয়। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে চার বছর মেয়াদি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়।

সংশোধিত বিধানে সভাপতি মনোনয়নের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়। আগে সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিষ্ঠানপ্রধান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষানুরাগী বা সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে পারতেন।

নতুন বিধানে বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম পাঠানোর কথা বলা হয়। এ তালিকায় নির্দিষ্ট গ্রেডের সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সরকারি কলেজ বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক, প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে সংসদ সদস্য ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হওয়ার আগের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর নতুন সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ সভাপতি হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং প্রবিধানমালা সংশোধনের দাবি জানান। তাদের দাবি ছিল, জনপ্রতিনিধিদেরও আগের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সভাপতি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ১৬ মার্চ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা ম্যানেজমেন্ট কমিটিগুলোকে রিস্টাবলিশ করেছি। আমাদের প্রত্যেকটি বেজলাইন হচ্ছে ডিগ্রি। স্নাতক, যেটা আমরা গ্র্যাজুয়েশন লেভেল বলি।”

তবে জনপ্রতিনিধিদের আবার সভাপতি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তখন স্পষ্ট করে কিছু বলেননি শিক্ষামন্ত্রী।

এদিকে, আগের নিয়ম ফিরিয়ে এনে জনপ্রতিনিধিদের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হলে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন প্রবীণ শিক্ষকরা। বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান সে সময় বলেছিলেন, ‘ওই নিয়ম ফিরিয়ে আনা হলে শিক্ষা ব্যবস্থা পেছনে হাঁটবে।’