দেশের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী ও জনসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নতুন একটি থানা এবং তিনটি উপজেলা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এই রূপরেখা চূড়ান্ত করতে আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ধারিত ১০০০ নম্বর সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। গত রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জারিকৃত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা সৃষ্টি এবং কয়েকটি জেলার ভৌগোলিক সীমানা পুনর্গঠনের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা এই সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। সভার মূল কার্যসূচিতে মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে ভেঙে নতুন ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
একই সাথে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নকে পৃথক করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে একটি নতুন প্রশাসনিক উপজেলা গঠনের প্রস্তাব টেবিলে রাখা হবে। এছাড়া কুমিল্লা জেলার বৃহৎ মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে আরেকটি নতুন উপজেলা সৃষ্টির বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের যে অংশগুলো বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অধীনে রয়েছে, সেগুলোকে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার এই প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের প্রস্তাবটি সভায় উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
এর পাশাপাশি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আওতাধীন আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও নিকারের এই সভায় বিবেচনা করা হবে। এর বাইরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনস্থ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও নিকারের সদস্যরা কথা বলবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী এবং কমিটির সকল সদস্যকে যথাসময়ে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভার প্রয়োজনীয় সব কার্যপত্র ইতোমধ্যে সদস্যদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী বৈঠক শেষে সেগুলো ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিকারের এই সভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিপ্রণেতারা। সভায় যেসব প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে, সেগুলো পরবর্তীতে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশব্যাপী কার্যকর করা হবে।