আজ ২২ মাঘ। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে শীতের তীব্রতম মাসটি বিদায় নিতে এখনো কিছু দিন বাকি থাকলেও প্রকৃতির আচরণে এখন থেকেই বসন্তের দোলা অনুভূত হচ্ছে। ঝরা পাতার শব্দ, বাতাসে ধুলোর উড়ান আর দিনের বেলা রোদের প্রখরতা জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। ভোরের দিকে মৃদু শীতল আমেজ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে এখন বেশ উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফাল্গুন আসার আগেই দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাতে শুরু করেছে, এমনকি রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও এখন ঊর্ধ্বমুখী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যা ছিল ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে মাঘের এই বিদায়বেলায় শীতের আমেজ পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সারা দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে নদী অববাহিকা অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার দেখা মিলতে পারে। আজ রাতে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমলেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় একই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামীকাল ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে শীতের অনুভূতি কিছুটা বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রা হ্রাসের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকলেও ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় পারদ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আজ সকালে এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ১১.৮, রংপুরে ১২.৩, ময়মনসিংহে ১৪.৫, সিলেটে ১৪, চট্টগ্রামে ১৭.৭, খুলনায় ১৪.৬ এবং বরিশালে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।