প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফর সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ। শহরের বিভিন্ন সড়কে টাঙানো হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন, মেরামত করা হচ্ছে সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনা। পাশাপাশি সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই ময়লার ভাগাড় সরানোর দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে এখন সেখানে বালু ফেলে বর্জ্য ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখান থেকে সড়কপথে রংপুর নগরের রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে যাবেন তিনি। বেলা ১১টার দিকে মন্দির পরিদর্শন শেষে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামেও যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সোমবার সকালে সৈয়দপুর শহর, বিমানবন্দর সড়ক ও রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ করতে দেখা যায়।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর পৌরসভার ওপর দিয়ে রংপুরে যাবেন। আমরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গার রং ও ডিভাইডার মেরামত করছি। এ ছাড়া যেসব স্থানে ময়লার স্তূপ রয়েছে, সেগুলো বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরের টার্মিনাল এলাকা থেকে বিমানবন্দরের দিকে পার্বতীপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লার স্তূপের ওপর বালু ফেলা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়টিও বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। সড়কের পাশে লাগানো হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন। কোথাও কোথাও সড়ক বিভাজকে রং করা এবং মেরামতের কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে সৈয়দপুর শহরের বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও হোটেল থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ওই ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছিল। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য জমে থাকায় আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারী, যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হতো।
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাগাড়টি সরানোর দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ভাগাড়ের কিছু বর্জ্য সরিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। শহরের অন্যান্য স্থানেও চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ।
স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার দাবি জানিয়ে আসছি। দুর্গন্ধের কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এত দিন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে জায়গাটি পরিষ্কার করে বালু ফেলা হচ্ছে।”
ময়লার ভাগাড় ঢেকে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পথচারী মাহবুবার রহমান। তিনি বলেন, “এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখতে হত। শহরের বিভিন্ন জায়গার ময়লা এনে এখানে স্তূপ করে রাখা হত। এখন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করছে। এভাবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হলে আমাদের চলাচলে সুবিধা হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। সফর ঘিরে সর্বস্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে সড়কপথে রংপুরে যাবেন। তাঁর আগমন ঘিরে আমরা উচ্ছ্বসিত। তাঁকে বরণ করে নিতে আমরা প্রস্তুত।”
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রংপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আবার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। এ উপলক্ষ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে। তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হবে।”