আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতেও এর চাপ পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর পরদিন আজ সোমবার তিনি এ কথা বলেন।
সচিবালয়ে বাজার পরিস্থিতি বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে এর অর্থনৈতিক চাপ বাংলাদেশকেও বহন করতে হয়। সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ একসঙ্গে না দিয়ে এর একটি অংশ বহন করলে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর পড়ে। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
বাজার ও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্য এবং যেসব পণ্যের ঋণপত্র (এলসি) ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে বা জাহাজীকরণের পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রোববার রাত ১২টা থেকে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত ছয় মাসে এ নিয়ে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো।
এ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি আরও জোরদারের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না। বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সভায় বাজারে পণ্য সরবরাহের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও কয়েকটি এলাকার বাজারে পড়েছে।
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত বছরের তুলনায় দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি ও ঋণপত্র খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।