শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফ্যামিলি কার্ডে ৩৭৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ টাকা দেওয়া হয়েছে

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ফ্যামিলি কার্ডে ৩৭৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ টাকা দেওয়া হয়েছে
ছবি : সংগৃহীত

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪ জন নারী গৃহপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং জলবায়ু সহিষ্ণু রাষ্ট্র বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারী ও শিশুরা সমান অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

নারীদের কল্যাণে গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুস্থ নারীদের জন্য ভিডব্লিউবি কার্যক্রম, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জয়িতা ফাউন্ডেশন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে হেল্পলাইনসহ বিভিন্ন ওসিসি সেন্টার সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

শিশুদের বিকাশের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, শিশু একাডেমি ও পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সারা দেশে ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে এবং কর্মস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপকূলীয় এলাকার নারীদের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় খুলনা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প চলছে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছে এবং নারীরা কৃষি ও জীবিকা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।

নদী ভাঙন রোধে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে সংসদ সদস্য আমির এজাজ খানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার নদী ভাঙন ও বেড়িবাঁধের সমস্যার বিষয়ে সরকার সচেতন। দাকোপে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে যা ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে। এছাড়া পোল্ডার পুনর্বাসন ও বর্ষা মৌসুমের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।