শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গাজায় আবারও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে হামাস

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধের পর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও গাজা উপত্যকায় নিজেদের শাসনব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ পুনরায় সুসংহত করছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। উপত্যকার সাধারণ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাস তাদের ভেঙে পড়া প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে।

গাজায় আবারও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে হামাস
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধের পর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও গাজা উপত্যকায় নিজেদের শাসনব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ পুনরায় সুসংহত করছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। উপত্যকার সাধারণ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাস তাদের ভেঙে পড়া প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় হামাসের বহু শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন এবং তাদের সুসংগঠিত সামরিক ইউনিটগুলো ক্ষুদ্র গেরিলা দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই যুদ্ধে ৭৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই গত চার মাসে হামাস তাদের নিরাপত্তা কার্যক্রম, কর আদায় এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানের ওপর কর্তৃত্ব ফিরে পেতে শুরু করেছে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী মোহাম্মদ দিয়াব জানান, গাজার যেসব এলাকায় হামাসের উপস্থিতি রয়েছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ অঞ্চলেই তারা পুনরায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। হামাসের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে বর্তমানে রাস্তায় টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। তারা অপরাধ দমনের পাশাপাশি পরিচয়পত্র প্রদান এবং স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণের মতো কাজগুলো তদারকি করছে। এছাড়া ভিন্নমতাবলম্বী ও ইসরায়েলি সহযোগীদের বিরুদ্ধেও তারা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

গাজার বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশি নজরদারি বাড়ার পাশাপাশি কর ও ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। একজন দোকানদার জানান, প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ দাবি করা হচ্ছে এবং ব্যর্থ হলে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইসরায়েল থেকে আসা পণ্যসামগ্রীর ওপরও তারা নতুন করে কর আরোপ করছে। এসব লেনদেন মূলত নগদ অর্থে করা হচ্ছে যাতে অর্থের উৎস গোপন রাখা যায়।

তবে হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম এসব অভিযোগের বিপরীতে জানিয়েছেন, গাজা বর্তমানে একটি জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করায় প্রশাসনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। তার দাবি, এটি নিয়মিত সরকারি কার্যক্রমের অংশ এবং এর সাথে সরাসরি হামাসের দলীয় সংশ্লিষ্টতা নেই।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মনে করছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে হামাস নিজেদের পুনর্গঠন করছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে হামাস বলছে, তারা অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি এমনভাবে সমাধান করতে চায় যা ভবিষ্যৎ শান্তি পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গাজার পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে সদস্য দেশগুলো গাজার পুনর্বাসন ও অর্থায়ন নিয়ে নতুন কৌশল ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।