বর্তমান সময়ে দেশের গণমাধ্যমগুলো আর তাদের মূল চরিত্রে নেই, বরং এগুলো বিভিন্ন বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন যে শাসনপদ্ধতি হিসেবে গণতন্ত্রই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাধ্যম। যদিও এটিই একমাত্র পথ নয়, তবুও এটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা। তিনি বিএনপিকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও উদারপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, যা কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের একটি দল।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতির অর্থনৈতিক দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, চুয়াত্তরের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পেছনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও মানবসৃষ্ট কারণ দায়ী ছিল, যার ফলে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই ভঙ্গুর পরিস্থিতি টেনে তুলেছিলেন।
কৃষি খাতের আধুনিকায়নে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ধান, পাট ও ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটগুলোর দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এগুলোর আধুনিকায়নে জিয়াউর রহমানের কতটা অগ্রণী ভূমিকা ছিল। তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতার কারণেই সে সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদের লড়াইয়ে জাপানকে পরাজিত করে বাংলাদেশ জয়ী হয়েছিল। এমনকি আন্তর্জাতিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর পেছনেও ছিল তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা।
গণমাধ্যমের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তথ্য পরিবেশনের চেয়ে এখন তোষামোদি বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। বিগত শাসনগুলোতে আমরা গণমাধ্যমের চাটুকারিতার চূড়ান্ত রূপ দেখেছি। তবে আমরা প্রত্যাশা করি, সাংবাদিক সমাজ এখন সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসবে। অতীতে যারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তারা এখন ইতিবাচকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং এই প্রক্রিয়ায় সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।