সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গণমাধ্যমের তোষামোদী আর দেখতে না চাইলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখতে হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন শক্তিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই সংবাদমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলেও, বিগত স্বৈরাচারী শাসন আমলে সেই ভূমিকা উপেক্ষা করে সংবাদমাধ্যমের একটি বড় অংশ তোষামোদিতে লিপ্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গণমাধ্যমের তোষামোদী আর দেখতে না চাইলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখতে হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমতাসীন শক্তিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই সংবাদমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলেও, বিগত স্বৈরাচারী শাসন আমলে সেই ভূমিকা উপেক্ষা করে সংবাদমাধ্যমের একটি বড় অংশ তোষামোদিতে লিপ্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চাটুকারিতার এই সংস্কৃতি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর রমনা এলাকায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

'জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা' শীর্ষক এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নবগঠিত সাংবাদিকদের সংগঠন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। উক্ত সমাবেশ থেকে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো পাঁচজন নির্ভীক সাংবাদিকের পরিবারকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি প্রত্যেকের হাতে এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তোষামোদি এবং মোসাহেবির এই নেতিবাচক মানসিকতা সমাজ থেকে চিরতরে দূর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনের আমলাতন্ত্র—সবখানেই এই ব্যাধি এখনও রাজত্ব করছে। তিনি মনে করেন, আমাদের সামগ্রিক জাতীয় মনস্তত্ত্বের এই গভীর সংকট থেকে মুক্তি পেতে এবং সমাজকে আমূল বদলে দিতে একটি বড় ধরনের বৈপ্লবিক রূপান্তর বা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কোনো বিকল্প নেই।

জুলাই সনদে বর্ণিত রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলোর কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল জানান, আন্দোলনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে একটি বিশেষ মহল কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে জনসাধারণের মাঝে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি অংশীজনদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জুলাই সনদের মূল রূপরেখায় পরিষ্কার উল্লেখ ছিল যে, যেসব নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে শতভাগ ঐক্যমত্য তৈরি হয়নি, পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা সরকার গঠন করবে, তারা দলীয় ইশতেহার ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সেই বিষয়গুলোর সুরাহা করবে। কিন্তু বর্তমানে সেই নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, যেসব রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত বিতর্ক হতে পারে। চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের লক্ষ্যে যে বিশেষ কমিটি কাজ করছে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা সম্পন্ন করতে বিরোধী দল যেন পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে।

বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো যেভাবে ধ্বংস ও লুটপাট করা হয়েছে, তা রাতারাতি পুনর্গঠন করা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুনর্গঠনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ একদিনে শেষ হবে না, তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাটি ইতিমধ্যে সূচিত হয়েছে। সব ক্ষেত্রে হয়তো এখনো পূর্ণতা আসেনি, তবে কাজ যে শুরু হয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এনইসির সভাপতি ও দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কখনোই কোনো রূপ স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হতে না পারে, সে জন্য গোটা সমাজকে সচেতন রাখাই ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য। নতুন এই ফোরামে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের মফস্বল সম্পাদকদেরও সমান অধিকার ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।

ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি ওয়াদার’-এর সম্পাদক শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সাময়িক কোনো বিষয় নয়, বরং এটি যুগ যুগ ধরে দেশবাসীকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তিনি ঘোষণা করেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পাঁচজন সাংবাদিকের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের যাবতীয় ব্যয়ভার বহনে এনইসি সর্বদা পাশে থাকবে।

দৈনিক ‘যুগান্তর’-এর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান এবং শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর সহধর্মিণী ফারহানা ইসলাম পপিসহ অন্যান্য শহীদ পরিবারের সদস্যরা।