বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের সমন্বয়ক শরিফ ওসমান হাদি খুনের ঘটনায় ভারত সরকারকে জড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে এবার চরম আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া সেই মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ও গুরুতর ধারায় মামলা (এফআইআর) নথিভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিশিষ্ট আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণীতে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মনে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি ভারত সরকার ও দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জড়িত বলে তিনি যে দাবি করেছেন, তা আন্তর্জাতিক আঙিনায় ভারতের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে কালিমালিপ্ত করেছে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বন্ধুভাবাপন্ন প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্যমান মজবুত দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলেও এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, একজন প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী। মমতার এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই সংবেদনশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্যের নেপথ্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে একটি নিবিড় ও গভীর তদন্ত হওয়া জরুরি।
থানায় এই লিখিত অভিযোগ জমা হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই নেত্রীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর মামলা দায়েরের ঘটনাটি ইতিমধ্যেই ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি হত্যা ইস্যুতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রতি ইঙ্গিত করে সম্প্রতি এক সভায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
"কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার। তথ্য ভাণ্ডার। কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। নাম বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে।"