বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বুদাপেস্টে সমাবেশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বুদাপেস্টে সমাবেশ
ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

গত ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার হন। বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যিনি আজীবন গণমানুষের অধিকার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, আজ তার নিজের হত্যার বিচারের দাবিতে প্রবাসের রাজপথে নামতে হওয়া রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। ন্যায়বিচার নিয়ে প্রবাসীদের এই সাহসী প্রশ্নগুলো বর্তমানে প্রশাসনের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে।

সমাবেশে উঠে আসা বিভিন্ন বক্তব্যে প্রশাসনের চরম অযোগ্যতা ও উদাসীনতাকে দায়ী করা হয়েছে। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, রাজধানীর মতো একটি সুরক্ষিত এলাকা থেকে ঘাতকরা কীভাবে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশত্যাগ করার সুযোগ পেল। খুনিরা দেশের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে বসে নিয়মিত ভিডিও বার্তা প্রদান করলেও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের আইপি ট্র্যাকিং বা অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এমন রহস্যজনক নীরবতার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ইশারা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রবল সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের আগের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে প্রবাসীরা অভিযোগ করেন, শরীফ ওসমান হাদিকে মৃত্যুর আগে অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং তিনি এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন। তা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে কিংবা হাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিন্দুমাত্র সচেষ্ট হয়নি। প্রশাসনের এই নিস্পৃহতাকে প্রবাসীরা সাধারণ অবহেলা নয় বরং সচেতন বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিচারের পরিবর্তে সরকারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবকে প্রবাসীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। হাদির পরিবার অর্থ নয় বরং ন্যায়বিচার চায় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কোনো পদস্থ ব্যক্তির ওপর এমন হামলা হলে কি বিচারের গতি এতো ধীর হতো? সাধারণ নাগরিকের জীবনের মূল্য কেবল কয়েক কোটি টাকায় নির্ধারণ করার প্রচেষ্টাকে তারা ইনসাফের পরিপন্থী বলে মনে করেন। সেই সাথে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হাদির আপসহীন অবস্থানের কথা স্মরণ করে প্রবাসীরা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংস্কৃতি রক্ষায় হাদি ছিলেন একজন অতন্দ্র প্রহরী। তার দেখানো পথেই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মাধ্যমে আধিপত্যবাদ রুখে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয় সমাবেশ থেকে।