সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে হচ্ছে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’ এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে হচ্ছে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’ এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে ‘হেলথ হাব’। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা একই ব্যবস্থার আওতায় দেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ করা হবে।

তিনি জানান, বাড়িতে গিয়ে মানুষের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ব্যবস্থাও থাকবে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জটিলতা গুরুতর পর্যায়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫১টি করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে এসব হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট এবং হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্ধ থাকা আইসিইউগুলো চালু করা হবে। পাশাপাশি নতুন মেডিকেল কলেজগুলোর কার্যক্রমও শুরু করা হবে।

তবে অবকাঠামো ও সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনে কঠোর হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হলেও দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।

সরকার আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন, জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েলসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।