শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হোয়াইট হাউসের কাছে বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিদ্ধ ২

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউসের একেবারে কাছাকাছি এলাকায় সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ সদস্যদের সাথে এক বন্দুকধারীর তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

হোয়াইট হাউসের কাছে বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিদ্ধ ২
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউসের একেবারে কাছাকাছি এলাকায় সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ সদস্যদের সাথে এক বন্দুকধারীর তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যার দিকে হোয়াইট হাউস চত্বরের ঠিক বাইরে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এবং সেভেনটিনথ স্ট্রিট নর্থ-ওয়েস্টের সংযোগস্থলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। আচমকা এই গোলাগুলির শব্দে পুরো হোয়াইট হাউস জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত পুরো এলাকা অবরুদ্ধ বা লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে তাঁর নিজস্ব সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সেভেনটিনথ স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছেন— এমন একটি জরুরি ও ঝুঁকিপূর্ণ বার্তা পাওয়ার সাথে সাথেই সিক্রেট সার্ভিসের ইউনিফর্ম পরিহিত বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর পরপরই সেখানে অবস্থানরত সন্দেহভাজনদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সরাসরি বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর সংবাদকর্মীরা জানান, তারা একের পর এক কয়েক ডজন গুলির বিকট আওয়াজ শুনতে পান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সিক্রেট সার্ভিসের সশস্ত্র এজেন্টের একটি বড় দল ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দ্রুত নর্থ লন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তার মাধ্যমে জানান যে, ব্যুরোর একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিক্রেট সার্ভিসকে সার্বিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে।

গোলাগুলির শব্দ শোনার সাথে সাথেই হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক দেখা দেয়। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এজেন্টরা ‘নিচে ঝুঁকে পড়ুন’ এবং ‘গুলি চলছে’ বলে উচ্চস্বরে সতর্কবার্তা দিতে দিতে সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রেস ব্রিফিং রুমে নিয়ে যান এবং সেখানে তাদের সম্পূর্ণ নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেন। এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক সেলিনা ওয়াইং সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে সেই মুহূর্তের ভয়ানক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, নর্থ লনে নিজের মুঠোফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য একটি লাইভ ভিডিও ধারণ করার সময়ই হঠাৎ একের পর এক গুলির শব্দ শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনিসহ সেখানে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকরা দ্রুত প্রেস ব্রিফিং রুমের দিকে দৌড়ে যান।

দীর্ঘ সময় ধরে পুরো এলাকা জুড়ে এক থমথমে ও নিস্তব্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করার পর অবশেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হোয়াইট হাউসের ওপর জারিকৃত লকডাউন বা কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র এক মাস আগের একটি স্মৃতি এখনো কাটেনি, যখন হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের অনুষ্ঠান চলাকালে কোল টমাস অ্যালেন নামের এক সশস্ত্র ব্যক্তি শটগান নিয়ে নিরাপত্তা চৌকি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন এবং ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সিক্রেট সার্ভিসের সাথে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হোয়াইট হাউসের প্রবেশদ্বারে এমন ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে এক বিশাল প্রশ্ন চিহ্নের জন্ম দিয়েছে। এই হামলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় কী, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ সহায়তায় গভীর তদন্ত শুরু করেছে সিক্রেট সার্ভিস।