ওমান নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সাথে সুনির্দিষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং ওই অঞ্চলের নৌ-নিরাপত্তা ও সামগ্রিক ভারসাম্য ধরে রাখতে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হরমুজ প্রণালির ওপর ওমান সরকারের আইনগত দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই নৌপথের বিশাল তাৎপর্য বিবেচনা করে সম্পূর্ণ শুল্ক বা ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল সচল রাখতে আইএমওর সাথে যৌথভাবে এই অস্থায়ী করিডোরটি চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইএমও এবং ওমানি কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করে যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই রুটটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে এই পথে যাতায়াতকারী নৌযানগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও সংস্থার সাথে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
এদিকে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের টোল বা কর আদায়ের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটন এই ধরনের কোনো একতরফা পদক্ষেপ কখনো মেনে নেবে না। এটি একটি মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ এবং সমুদ্র আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রই এই পথ ব্যবহারের জন্য অন্য কোনো দেশকে কর দিতে বাধ্য নয়। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রসমূহসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশও মার্কিন এই অবস্থানের সাথে একমত পোষণ করবে।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করে গতকাল তেহরানে প্রত্যাবর্তনের সময় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম ইরনাকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। এখন থেকে যেসব বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এই সমুদ্রসীমা ব্যবহার করবে, তাদের প্রত্যেককে অবশ্যই ইরান সরকারকে নির্দিষ্ট হারে টোল প্রদান করতে হবে।
ইরানি স্পিকারের এই বিতর্কিত মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের কর আদায়ের এমন দাবির বিরুদ্ধে শক্ত আপত্তি জানিয়ে আসছিল মার্কিন প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরমুজ প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বিশ্বে উৎপাদিত ও বিপণনকৃত মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ ভাগ এই একমাত্র সমুদ্রপথ ব্যবহার করেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবাহিত হয়ে থাকে।