ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপির নেতৃত্বে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্স-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নরসিংদী-রায়পুরা আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন রোডের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন। রাস্তার দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা থাকার কারণে প্রতিদিনের যানজট ও জনভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই উচ্ছেদ।
শনিবার সকালে পরিচালিত এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা ই রাব্বি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পাল এবং রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান। এ সময় রায়পুরা উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুরা-আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ বাজার ও রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশ দখল করে দোকানপাট এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে অটোরিকশা ও সিএনজি রাখার ফলে দিনভর তীব্র যানজট লেগেই থাকত। এতে জেলা শহরে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হতেন। রায়পুরা-নরসিংদী সড়কটি সংস্কার ও চার লেনে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে কয়েক দিন আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখলদাররা স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় একটি এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে উচ্ছেদ শুরু করা হয়।
গত ৩ বছর ধরে নরসিংদী-রায়পুরা রাস্তা প্রশস্ত করার উন্নয়ন কাজ অব্যাহত আছে। ২০২৫ সালেই এ কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও কিছু প্রভাবশালী মহল ভুয়া দলিল সৃজন করে সরকারি রাস্তার ওপর হোটেলসহ বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে তুলেছিল। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না; এমনকি ইতিপূর্বে প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার রানা বিল্ডার্স আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আজ এই উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অভিযান চলাকালে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, "নরসিংদী থেকে রায়পুরা পর্যন্ত রেললাইনের পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। হাসনাবাদে রেলওয়ের জায়গা দখল করে অনেক দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছিল, যার ফলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ করতে পারছিল না। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাস্তা দখল করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল; আজ সেগুলো উচ্ছেদ করে রাস্তার কাজের পথ সুগম করা হচ্ছে।"
অভিযানে পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মোতায়েন থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর জনগুরুত্বপূর্ণ এই বাজারটিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।