শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক পুলিশিং সংস্থা ইন্টারপোলের বৈশ্বিক তালিকায় এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৬ হাজার ৪৪২ জন পলাতক আসামির নাম রয়েছে, যার মধ্যে ৫৯ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক পুলিশিং সংস্থা ইন্টারপোলের বৈশ্বিক তালিকায় এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৬ হাজার ৪৪২ জন পলাতক আসামির নাম রয়েছে, যার মধ্যে ৫৯ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। সম্প্রতি দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক হওয়ার পর এই আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার কার্যপদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারপোল মূলত সব রেড নোটিশভুক্ত অপরাধীর নাম তাদের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ওয়ান্টেড তালিকায় প্রকাশ করে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধী যেন আগাম সতর্ক হয়ে আত্মগোপন করতে না পারে, সেজন্য নাম গোপন রাখা হয়। সাবেক আইজিপি বেনজীরের ক্ষেত্রেও একই কৌশল নেওয়া হয়েছে, যার ফলে তার রেড নোটিশ ইন্টারপোলের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকলেও সাধারণ তালিকায় তা দেখা যাচ্ছে না। তবে তালিকায় থাকা ওই ৫৯ বাংলাদেশিকে নিজ দেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বাহিনী হন্যে হয়ে খুঁজছে।

তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের একটি হত্যা মামলায় চাঁদপুরের রাজু ঢালী এবং আফ্রিকার দেশ ইসওয়াতানিতে খুনের দায়ে ঢাকার মো. মিলন ও লিটন ব্যাপারীকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নোয়াখালীর মিজান মিয়া এবং বেলজিয়ামে খুনের মামলায় লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ আলম ইন্টারপোলের নজরদারিতে আছেন। মালয়েশিয়া সরকার চোরাচালানের অভিযোগে নাটোরের সিরাজ মোস্তফা এবং খুনের দায়ে ফেনীর আলা উদ্দিনকে খুঁজছে। অন্যদিকে, জালিয়াতির অভিযোগে ভারতের তালিকায় রয়েছেন খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস ও তরিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর সবুজ, গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ, নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিক উল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যৌন নির্যাতন ও অস্ত্র মামলায় যথাক্রমে জাহিদুল ইসলাম ও ফজলুল আমীন জাভেদ ওয়ান্টেড তালিকায় আছেন এবং অর্থ আত্মসাতের দায়ে মালদ্বীপ খুঁজছে হানিফ নামের এক বাংলাদেশিকে।

পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন মারাত্মক অপরাধে জড়িত অনেককে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ তাজউদ্দীন, বাবু আহমেদ রাতুল, ইউসুফ, সাজ্জাদ হোসেন খান, নাইম খান ইকরাম, কালা জাহাঙ্গীর ফেরদৌস, নুরুল দীপু, আহাম্মেদ মজনু, খন্দকার আব্দুর রশীদ, রাশেদ চৌধুরী, নুর চৌধুরী, নবী হোসাইন, জিসান আহমেদ, তৌফিক আলম, প্রকাশ কুমার, জাফর আহমেদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, নাজমুল আনসার, শরীফুল হক ডালিম, শরীফুল হোসাইন, আমিনুর রসুল, আব্দুল জাব্বার, গোলাম ফারুক অভি, রফিকুল ইসলাম, হারুন শেখ, মোসলেম উদ্দিন খান এবং চন্দন কুমার রায়। এছাড়া জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মো. হাছান আলী, আবুল কালাম আজাদ ও সৈয়দ মো. হোসেনকেও খুনের মামলায় খুঁজছে ঢাকা।

গুরুতর অপরাধের বাইরেও মানবপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া, তানজীরুল এবং মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলামকে খুঁজছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সাথে পর্নোগ্রাফি মামলায় টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, অস্ত্র মামলায় গিয়াস উদ্দিন, নির্যাতন মামলায় চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ এবং জালিয়াতির অভিযোগে জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমানের বিরুদ্ধেও রেড নোটিশ রয়েছে।

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৯৬টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত এই বিশ্ব পুলিশ সংস্থাটি মূলত আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও দমনে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে।