শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান বিক্ষোভের কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠল ইলম

 ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ এবার দেশটির প্রায় ২৫টি প্রদেশে বিস্তৃত হয়েছে। তবে চলমান এই আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইলম। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রদেশেই বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনাগুলো ঘটছে।

ইরান বিক্ষোভের কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠল ইলম
ইলম প্রদেশের আবদানান শহরের রাস্তায় নেমে এসেছে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

 ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ এবার দেশটির প্রায় ২৫টি প্রদেশে বিস্তৃত হয়েছে। তবে চলমান এই আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইলম। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রদেশেই বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনাগুলো ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান আন্দোলনে দেশজুড়ে নিহতের যে তালিকা পাওয়া গেছে, তার প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে। নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিতে এই অঞ্চলে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার বড় একটি অংশ ঘটেছে ইলম, লোরেস্তান, চাহার-মাহাল ও বাখতিয়ারি এবং কোহগিলুয়ে ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলগুলোতে মূলত কুর্দি ও লোর জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস।

বিশ্লেষকদের মতে, ইলম প্রদেশের বিক্ষোভের ব্যাপকতা সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে আবদানান নামক মাত্র ২৫ হাজার জনসংখ্যার একটি ছোট শহরে বিশাল শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পরের দিনই লোরেস্তানের আলিগুদারজ শহরেও (জনসংখ্যা এক লাখের কম) হাজার হাজার মানুষ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইরানের গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো বিক্ষোভের এই বিশাল উপস্থিতিকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি লোরেস্তানের আন্দোলনকে ‘ব্যর্থ দাঙ্গা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, সেখানে কোনো লোক সমাগমই হয়নি। যদিও ওই একই প্রতিবেদনে তারা স্বীকার করেছে যে, এই অঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতির হার জাতীয় গড় হারের চেয়ে অনেক বেশি।

অন্যদিকে, গত রোববার ইলমের রাজধানী শহরের ইমাম খোমেনি হাসপাতালে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর জনমনে ক্ষোভ আরও চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়ে পুলিশ সেখানে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। ইরানের মধ্যপন্থী দৈনিক ‘হাম-মিহান’ এক বিরল মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিছিলে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র মানুষরা সামরিক মানের বুলেটে বিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান এবং গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক পরিবার আহত স্বজনদের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।