তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের একচ্ছত্র ক্ষমতা সংকুচিত করতে মার্কিন উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ায় নিজের তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন যে আইনপ্রণেতাদের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত তার প্রশাসনিক ও কৌশলগত কার্যক্রমকে চরম সংকটে ফেলেছে, যার ফলে প্রকারান্তরে মার্কিন শত্রুপক্ষই বড় ধরনের সুবিধা পেয়ে গেল।
নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক কড়া বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি যখন ইরানকে চারপাশ থেকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন এবং তারা যখন সম্পূর্ণরূপে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত, এমনকি কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম তারা ওয়াশিংটন ও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সমীহ করতে শুরু করেছে; ঠিক তখনই সিনেট অত্যন্ত অসময়ে একটি অর্থহীন যুদ্ধ ক্ষমতা আইন পাসের সিদ্ধান্ত নিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার পোস্টে আরও দাবি করেন, এই বিতর্কিত ভোটের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের মূল পৃষ্ঠপোষক দেশটিকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা ভাবছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ট্রাম্পের নেওয়া কঠোর অবস্থানগুলো একেবারেই পছন্দ করছেন না এবং তাকে এখনই থামানো উচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই বিলটি অনুমোদনের মাধ্যমে মার্কিন সিনেটররা মূলত শত্রুপক্ষকে সরাসরি নীতিগত সহায়তা ও বাড়তি সুবিধা প্রদান করেছেন।
এই বিশেষ প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের সাথে সুর মিলিয়ে যে চারজন রিপাবলিকান দলীয় আইনপ্রণেতা ভোট দিয়েছেন, তাদের ওপর বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন আইনসভার এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও রেষারেষির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ও অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।
কূটনৈতিক জটিলতার দিকটি উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যেই তাদের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছে যে মার্কিন প্রশাসনের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মূল অর্থ কী। নিজের ক্ষোভের কথা পুনর্ব্যক্ত করে পোস্টের শেষ অংশে তিনি লিখেছেন, এই সিনেটররা তার চলমান কাজকে অনেক বেশি কঠিন করে তুলেছেন। তবে যেকোনো উপায়েই হোক তিনি নিজের লক্ষ্য পূরণ করবেন, কারণ তিনি সবসময়ই সফল হন।