রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইসরায়েল লেবানন থেকে না সরলে কোনো আলোচনা নয়: ইরান

দক্ষিণ লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে প্রত্যাহার না করা হলে ওয়াশিংটনের সাথে সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েল লেবানন থেকে না সরলে কোনো আলোচনা নয়: ইরান
ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে প্রত্যাহার না করা হলে ওয়াশিংটনের সাথে সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তাসনিম নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে তেহরান এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াবে।

চুক্তির ওই সুনির্দিষ্ট শর্তটিতে লেবাননসহ চলমান সমস্ত যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই ধারাটি কার্যকর না করা পর্যন্ত যেকোনো ধরনের সংলাপকে অর্থহীন ও ফলহীন বলে মনে করছে ইরান।

গত বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথম দফার বৈঠক শুরু হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে আয়োজিত এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে অংশ নিয়েছে পাকিস্তান ও কাতার।

রোববারের এই বহুপাক্ষিক বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তেহরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেবানন সংকট নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থান পরিষ্কার করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা’র মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেল আবিব ক্রমাগত লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি লঙ্ঘন করে চলেছে। ফলে রোববারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক এই সমঝোতা হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, ইসরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পারস্পরিক একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ বন্ধ হয়নি।

এই বিষয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় তাদের সৈন্যরা নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ বজায় রাখবে। অপরপক্ষে, লেবাননে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের দাবিতে অনড় রয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, লেবাননে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ না হলে এবং পশ্চিমা বিশ্বে আটকে থাকা ইরানি অর্থ ও সম্পদ অবমুক্ত করা না হলে তারা পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত কোনো বৈঠকে অংশ নেবে না।