রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইসরায়েলি বাহিনীর কমান্ড হেডকোয়ার্টারে হিজবুল্লাহর হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সদর দপ্তরে সফল বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা দল হিজবুল্লাহ। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর কমান্ড হেডকোয়ার্টারে হিজবুল্লাহর হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সদর দপ্তরে সফল বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা দল হিজবুল্লাহ। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সংলগ্ন নাকুরা শহরে অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ওই আস্তানায় তারা নিজস্ব প্রযুক্তির ‘আবাবিল’ ড্রোন ব্যবহার করে এই নিখুঁত আঘাত হেনেছে। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা হাদ্দাথা অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে অবস্থান নেওয়া একদল ইসরায়েলি সেনাকে লক্ষ্য করে দুটি আত্মঘাতী ড্রোন পাঠায় এবং একই সময়ে ইয়োহমোর আল-শাকিফ সীমান্ত এলাকায় রকেট ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করে শত্রুসেনাদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসী ও বিপজ্জনক নীলনকশা নস্যাৎ করতে এই ধরণের প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এর আগে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ইসরায়েলি বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সৈন্যদলকে লক্ষ্য করে অন্তত পঁচিশটি পৃথক অভিযান চালানোর দাবিও করেছে হিজবুল্লাহ।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন করতে গিয়ে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি মন্তব্য করেছেন, তেল আবিব প্রশাসন বর্তমানে ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটিকে একটি আন্তর্জাতিক তামাশায় পরিণত করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর কিংবা লেবাননের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসরায়েল মূলত প্রতিপক্ষকে যুদ্ধ থামানোর কথা বলে নিজেরা অবিরাম সামরিক অভিযান সচল রাখছে।

এই বিশ্লেষক গাজার উদাহরণ টেনে বলেন, গত বছরের শেষ দিক থেকে সেখানে এক প্রকার নামকাওয়াস্তে যুদ্ধবিরতি চললেও এই সুযোগে প্রায় ৯০০ ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্থতায় লেবাননে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে প্রতিনিয়ত বোমাবর্ষণ করে চলেছে, যা প্রমাণ করে বাস্তবে লেবানন সীমান্তে কার্যকর কোনো যুদ্ধবিরতির অস্তিত্ব নেই।