ভোটের মাঠে ধর্মীয় আবেগকে সামনে এনে দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। নির্বাচনী গণসংযোগে দেওয়া মন্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি–কমলনগর) আসনে জামায়াত ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ নিজ এলাকায় ভোটের প্রচারের সময় বলেন, “দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত, না দিলে গুনাহ হবে।”
গণসংযোগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “মা-বোনদের জন্য বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা আছে। এগুলো কি আপনারা পান..? এগুলো পান না। তারপরে জেলে কার্ড আছে। সেগুলো পাওয়া যায় না। আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, একদল দুর্নীতি করতে করতে শেষ, আরেকদল বিগত দিনে দুর্নীতি করেছে আবার করতে রেডি হচ্ছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ আমাদের দ্বারা দুর্নীতি হবে না। এবং আমি বলতে চাই, আপনারা যদি ইসলামের পক্ষে কোরআনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন। আপনারা সোয়াবের ভাগি হবেন, আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত, আর যদি কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দেন তারা গুনাহগার হবেন। ওরা ভোট দেয়ার পরে নির্বাচিত হলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করবে এবং রাস্তার টাকা মারি খাবে, প্রজেক্টের টাকা মারি খাবে এটা হইলো তাদের কাজ।”
এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান।
ইমরান হোসেন শাকিল লেখেন, “দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত! না দিলে গুনাহ্ হবে -জামায়াত প্রার্থী এআর হাফিজ উল্লাহ (নাউজুবিল্লাহ্)।”
শাহ আলম সম্রাট লিখেছেন, “দাঁড়ি পাল্লার এম পি প্রার্থীরা জান্নাতের মালিকানা দাবি করে সবাইকে বলে নিশ্চিত জান্নাত দিবে, নাউজুবিল্লাহ।”
মো. মাইন উদ্দীন তার পোস্টে মন্তব্য করেন, “তারা এভাবে দেশের সাধারণ মানুষকে ধোঁয়া দিচ্ছে। হাফিজ ভাই এভাবে আর কত আপনারা মানুষকে ধোকা দিবেন.? হাফিজ ভাই আপনি যদি জান্নাতের টিকিট দিতে পারেন তাহলে আমি কথা দিচ্ছি আমার প্রথম ভোট আমি আপনাকে দিব, দাঁড়ি পাল্লায় দিব।”
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও সক্রিয়ভাবে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন চারজন। তারা হলেন—বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খালেদ সাইফুল্লাহ (হাতপাখা), বাসদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিলন মণ্ডল (মই) এবং জামায়াতে ইসলামীর এ আর হাফিজ উল্যাহ (দাঁড়িপাল্লা)।