ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নির্বাচনটিকে কারচুপিপূর্ণ ও দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে গতকাল সোমবার তিনি মন্তব্য করেন যে, ব্রাজিলের এই ভোট বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত নেতিবাচক একটি নজির স্থাপন করেছে।
এর আগে গত রোববার অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের ডানপন্থী মিত্র হিসেবে পরিচিত ফ্লাভিও বলসোনারো ফলাফল প্রত্যখ্যান করেন এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন বাতিলের দাবি তোলেন।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় যোগ দিতে ওয়াশিংটন ত্যাগের প্রাক্কালে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় ব্রাজিলের নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে অভিহিত করেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষাবলম্বন করেননি, তবে তার দৃষ্টিতে এটি আরেকটি কারচুপির নির্বাচন বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।
বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ফ্লাভিওর প্রতি তার পরোক্ষ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ফ্লাভিও অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকায় রক্ষণশীল নেতৃত্বের একটি নতুন বলয় তৈরি করবেন। অবশ্য ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন তিনি কাউকে সমর্থন দেননি। তার মতে, যেকোনো নির্বাচনই সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত, কিন্তু ব্রাজিলের নির্বাচনটি তার কাছে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে।
ব্রাজিলের এই নির্বাচনী ফলাফলের জেরে মার্কিন প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন ট্রাম্প। তিনি কেবল বলেন, তার নির্বাচনী লড়াই ব্রাজিলের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে। তবে দেশটিতে ভোট গণনা প্রক্রিয়া এবং ভোটগ্রহণের সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি তার কাছে মোটেও ইতিবাচক মনে হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, পরিবহনজনিত জটিলতার কারণে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি শহরে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় দুই ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। আর এই সিদ্ধান্তের পরপরই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন ফ্লাভিও বলসোনারো।
বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার প্রতিও নিজের ইতিবাচক মনোভাবের কথা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। লুলাকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করার কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার সঙ্গে লুলার অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজ প্রশাসনের প্রভাবের বিষয়টিও একাধিকবার সামনে এনেছেন ট্রাম্প। ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে দেওয়ার উদাহরণ হিসেবে গত জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। গত সপ্তাহেই সংবাদকর্মীদের কাছে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, একটা সময় দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতি পুরোপুরি বামপন্থার দিকে ঝুঁকে থাকলেও বর্তমানে তা সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।