মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সাগর-রুনি খুন: তদন্তে টাস্কফোর্স নিয়ে হাইকোর্টে আদেশ আজ

আজ ২৭ অক্টোবর বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রিট মামলাটি এক নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সাগর-রুনি খুন: তদন্তে টাস্কফোর্স নিয়ে হাইকোর্টে আদেশ আজ
বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্স সংক্রান্ত বিষয়ে আজ মঙ্গলবার আদেশ দেবেন উচ্চ আদালত।

আজ ২৭ অক্টোবর বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রিট মামলাটি এক নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আদালতে এই হত্যা মামলার বাদীপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির, যাকে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত এক আদেশে মামলাটির তদন্তভার থেকে র‍্যাবকে অব্যাহতি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। আদালতের ওই আদেশের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। তবে নির্ধারিত ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি চলমান থাকায় সে সময় কার্যক্রম আর এগোয়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ও ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল—মোট তিন দফায় রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ছয় মাস করে সময় বৃদ্ধি করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পুনরায় রিট আবেদনটি আদালতের কার্যতালিকায় এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাটে নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে পুলিশ তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ১২ ফেব্রুয়ারি নিহত রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন।

শুরুতে শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও চার দিন পর অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারি এর দায়িত্ব পান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের পরিদর্শক মো. রবিউল আলম। এর দুই মাস পর হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) কাছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই ২০১২ সালে সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করেছিল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, তাদের করা ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। ওই রুলে সাগর-রুনি হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কেন বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদেরই অপর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তের দায়িত্ব র‍্যাবের হাতে ন্যস্ত করা হলেও আজ অবধি এই মামলার কোনো চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি।