রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে ‘স্নাইপার’ নিয়ে মন্তব্যকারী ৭ দিনের রিমান্ডে

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের ছবি নিয়ে পোস্টে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে ‘স্নাইপার’ নিয়ে মন্তব্যকারী ৭ দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের ছবি নিয়ে পোস্টে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আবু বকর সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আবেদনে দাবি করা হয়, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে কেউ জড়িত কি না, কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয় আবেদনে। আসামি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, চক্র বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না এবং ঘটনার পেছনে কোনো চক্র বা মূল পরিকল্পনাকারী রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামির কাছ থেকে জব্দ করা আলামতের বাইরে অন্য কোনো ডিভাইস বা ডিজিটাল তথ্য রয়েছে কি না, তা শনাক্ত ও উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে।

আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই, আসামির এমন মন্তব্য করার কারণ এবং তিনি কোন কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ সময় তিনি আসামির সর্বোচ্চ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আসামির কাছে জানতে চান, তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কি না। আবু বকর সিদ্দিক চারদিকে তাকিয়ে বলেন, ‘না, কেউ নেই।’ পরে বিচারক তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘কেন আপনি এমন করেছেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘এমনি করেছিলাম। কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, মজা করেছিলাম। এটা আমার ভুল হয়েছে।’ শুনানি শেষে আদালত তাঁর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিতর্কিত মন্তব্যটি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বাবার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের সময় আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন।