মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শরীয়তপুরে হোটেল থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, টাকা না দিলে লাশ না পাওয়ার হুমকি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে তাঁর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক ও ম্যানেজার পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শরীয়তপুরে হোটেল থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, টাকা না দিলে লাশ না পাওয়ার হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে তাঁর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক ও ম্যানেজার পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ থানা সেতুসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবুল বাশার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর সকালে গাজীপুরের নিজ বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী অবস্থান জানতে চান এবং সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানানো হয়নি।

একপর্যায়ে ওই মোবাইল ফোন থেকে আবুল বাশারের শুয়ে থাকা অবস্থার একটি ছবিও পাঠানো হয়। টাকা না দিলে তাঁর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। পরে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলেও আর কেউ কল ধরেননি।

এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে তাঁর অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশকে জানানো হলে ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিক্ষকের ভাগনে কবির হোসেন বলেন, তাঁর মামা রোববার সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। রোববার থেকে তাঁকে বন্ধুর বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানানো হচ্ছিল। তবে সোমবার মামার মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন দুই দফায় চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে ভেদরগঞ্জের ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে তাঁর মামার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন বলেন, ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামের এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য একটি ক্রাইম সিন তদন্ত দল সেখানে যাবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান ও ম্যানেজার মামুন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে টাকা দাবির ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং হোটেলমালিক ও ম্যানেজারের পলাতক থাকার সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে।