রাশিয়া থেকে আমদানি করা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান প্রকল্প প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছেছে।
আজ মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী তিনটি লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, আজ সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে ইউরেনিয়াম বহনকারী লরিগুলো রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়। এর আগে গতকাল সোমবার ২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে এই পারমাণবিক জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে যে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের চাহিদা মেটাতে মোট সাতটি কার্গো ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি ভরার লক্ষ্যে আরও দুটি কার্গো ফ্লাইটে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি ইতিমধ্যে দেশে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে সর্বমোট নয়টি চালানের মাধ্যমে এই পারমাণবিক জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রুশ প্রযুক্তির সহায়তায় নির্মিত এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। এর প্রতিটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিটে সর্বমোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ আনুষঙ্গিক সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব পরীক্ষার ফলাফল সংবলিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে।
বায়েরার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়া গেলেই প্রথম ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ স্টেজ-সি বা পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে উন্নীত হবে। এই ধাপে পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করা হবে। সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলার পরই এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।