আজ বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যদি সচেতন থাকেন, তবে জাতীয় সম্পদ ও অর্থ বিদেশে পাচার করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। পাচার রোধ করে সেই উদ্বৃত্ত অর্থ ও সম্মিলিত শ্রমের মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণের ভাগ্যোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া যে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া কথা পূরণ করার সামর্থ্য দিয়েছেন। সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণাকালে হবিগঞ্জের একটি মহাসমাবেশ থেকে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, আজকের এই আয়োজন মূলত তারই ধারাবাহিকতা। উদ্বোধনী দিনে হয়তো সব সুবিধাভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের সব নারী শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেন তিনি।
একই সঙ্গে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশব্যাপী আরও ৪০ লাখ প্রান্তিক পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড এবং সমসংখ্যক কৃষকের মাঝে বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের নতুন লক্ষ্যমাত্রার কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, যে বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেটিকে একটি রাজনৈতিক দল গণবিরোধী বলে আখ্যা দিচ্ছে। জনগণের সুরক্ষায় সব ধরনের অর্থনৈতিক সুরক্ষাকবচ রাখার পরও যারা এই বাজেটকে গণবিরোধী বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা কখনোই জনগণের প্রকৃত সুহৃদ হতে পারে না।
তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে যারা সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই সব স্বার্থান্বেষী মহল ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি সৃষ্টির সুযোগ পায়, তবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।