দেশের স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটাতে ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় নাগরিকদের জন্য ই-হেলথ কার্ড প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্দশ দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ই-হেলথ কার্ড সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রাথমিকভাবে নোয়াখালী, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নরসিংদী জেলার বাসিন্দারা এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষি খাতের উন্নয়নেও সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের কর্মসূচির অধীনে গত ১৬ মার্চ থেকে নদী ও খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১২০৪ কিলোমিটার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আরও ১৫০০ কিলোমিটার খাল সংস্কার করা হবে। আগামী ৫ বছরে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার জলাশয় পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেড় কোটি চারা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আসন্ন বর্ষায় সেগুলো রোপণ করা হবে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে পোশাক বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা বা ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে।
ক্রীড়া ও তরুণ প্রজন্মের বিকাশে প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং উপজেলা পর্যায়ে ১০ বিঘা আয়তনের খেলার মাঠ তৈরির জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেশে পেপাল সেবা চালুর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে প্রথমবারের মতো বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে প্রথম ধাপে ১২৯ জন এবং পর্যায়ক্রমে ৫০০ জনকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। শিক্ষা ঋণের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে; ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসার জন্য জামানতবিহীন ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে, যা বিশেষ করে জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। সবশেষে বেকারত্ব নিরসনে ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে শুধুমাত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।