শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে : সংস্কৃতি মন্ত্রী

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে : সংস্কৃতি মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আজ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, জাদুঘরটির নির্মাণ ও সংস্কার সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন গঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময় ও সম্মতি সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই স্মারক জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।


গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে সংস্কৃতি মন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের শাসন আমলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তৎকালীন দুঃশাসনে দেশের মানুষ চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। জনগণের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, ব্যাপকতা এবং এর মূল চেতনাকে ধারণ করার লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই স্মৃতি জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটিকে আরও নিখুঁত ও স্থায়ী রূপ দিতে কিছু আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাদুঘর চালু করতে দেরি হওয়া এবং এর ব্যয় সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এটি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর সফলভাবে সচল রাখতে স্থায়ী জনবল ও সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের আইনি অনুমোদন এবং বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হওয়ায় উদ্বোধনে কিছুটা সময় লেগেছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন বিশেষ কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও স্পিরিট দেশবাসীর হৃদয়ে জাগ্রত রাখতে এবং দেশব্যাপী তা ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল ১৫ জুলাই থেকে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে উপদেষ্টা বলেন, ১৫ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। কারণ ১৪ জুলাই মধ্যরাতের পর ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল এবং এর পরদিনই শিক্ষার্থীদের ওপর, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এই ন্যাক্কারজনক ব্যবস্থাপনাই পরবর্তীতে ১৬ জুলাইয়ের মহান আত্মত্যাগের পথকে আরও বেগবান করেছিল। ঐতিহাসিক এই দিনগুলোর মূল চেতনা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং গৃহীত কর্মসূচিগুলোর প্রচারণায় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।