রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় একটি বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় একটি বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি নিজেদের পছন্দমতো আরও একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ পাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক নতুন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরতে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এ অধ্যায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন চারটি বই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে আরও দুটি নতুন বই যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক জানান, চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই দুটি খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিভিত্তিক। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ক দুটি বই। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া একসঙ্গে চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আনন্দময় ও চাপমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ শিক্ষাক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব দেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা।

এদিকে নারী শিক্ষাকে আরও উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।