শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কার্যকর হলো নবম পে-স্কেল: বর্ধিত বেতন মিলবে গেজেট প্রকাশের পর

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকুরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অবশেষে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

কার্যকর হলো নবম পে-স্কেল: বর্ধিত বেতন মিলবে গেজেট প্রকাশের পর
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকুরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অবশেষে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

চলতি মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন এই কাঠামো চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঠিক কবে নাগাদ বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন, তা নিয়ে কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন, সরকারি গেজেট প্রকাশ এবং সফটওয়্যারভিত্তিক আইবাস পদ্ধতিতে বেতন সমন্বয়ের পরেই এই বাড়তি অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

এর আগে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামো সচল থাকা এবং সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখেই বিভিন্ন ধাপে বেতন বৃদ্ধির এই রূপরেখা তৈরি করা হয়। তবে চূড়ান্ত গেজেট ও সরকারের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের ওপরই এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও হিসাব সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতা এড়াতে প্রারম্ভিক ধাপে কেবল মূল বেতন একযোগে সমন্বয়ের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এর বিপরীতে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা সুবিধা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতার সংশোধনটি পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হতে পারে। নতুন এই বেতন কাঠামোর প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বিপুল অর্থ দেশের প্রায় ১৪ লাখ নিয়মিত সরকারি কর্মী, ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বর্ধিত সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যয় করা হবে, যার ফলে এই খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

নতুন এই বেতন স্কেল সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এলেও দেশের অর্থনীতিবিদরা এর সামষ্টিক প্রভাব নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকারি স্তরে বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও যদি যথাযথ বাজার মনিটরিং ও পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তবে অতিরিক্ত চাহিদার চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, খুব দ্রুতই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক গেজেট জারি করা হবে এবং এরপর বকেয়াসহ বর্ধিত টাকা চাকরিজীবীদের হাতে পৌঁছে যাবে।