হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আদিত্যপুর ও আরিছপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সহিংসতায় মো. সেলু মিয়া নামের পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত বিশজন কমবেশি জখম হয়েছেন।
আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় একটি বাজারে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মহল্লা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় মাস দুয়েক আগে একটি কবরস্থানের সীমানায় বেড়া নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে আদিত্যপুর গ্রামের মর্তুজা মিয়ার সন্তান আক্তার মিয়া ও নাসির মিয়ার সাথে আরিছপুর গ্রামের মিলন মিয়া, সারু মিয়া এবং এখলাছ মিয়ার মধ্যে প্রথম বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সেই পুরনো শত্রুতার জের ধরে গত শুক্রবারও উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও মৃদু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে দুই গ্রামের লোকজন পুনরায় সংঘাতে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে আদিত্যপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফিরোজ আলীর ছেলে মো. সেলু মিয়া মারাত্মকভাবে জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আদিত্যপুর ও আরিছপুর গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাহুবল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম জানান, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই সহিংসতার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।