ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় শেষ পর্যন্ত বৈধ ৪৯ জন প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বুধবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচিত এই প্রার্থীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো আবেদন জমা না পড়ায় বৈধ সব প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হচ্ছে। ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৩টি জোট ও স্বতন্ত্র পর্যায় থেকে ৪৯ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে ৪৯ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সরকারি চাকরি ছাড়ার পর প্রয়োজনীয় সময় অতিক্রান্ত না হওয়ায় জামায়াত জোটের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এছাড়া তথ্যগত ত্রুটি ও স্বাক্ষরের অভাবে আরও তিনজনের আবেদন নাকচ করে ইসি।
এদিকে, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা নিয়ে একটি আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় শুরুতে সেটি গ্রহণ করা হয়নি। তবে পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশনায় তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও পুনরায় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২ মে শনিবার নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে এবং তার চূড়ান্ত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বাকি একটি আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশের পর তা সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এরপরই নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর ফলে ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের মূল ধাপটি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।