বিভিন্ন সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতজুড়ে বিপুল শিক্ষার্থী অসন্তোষ ও তুমুল আন্দোলনের মুখে অবশেষে শীর্ষ প্রশাসনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
সার্বিক দায়বদ্ধতার স্বার্থে উচ্চশিক্ষা বিভাগের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ আমলা ভিনীত জোশীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ১৯৯৪ ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নরেশ পাল গ্যাংওয়ারকে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রশাসনিক আদেশে এই বদলির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়। সেখানে বলা হয়েছে, এতদিন উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াদির প্রধান কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত থাকা জোশীকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে টি কে অনিল কুমারকে। শাসক দলের সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রশ্নফাঁস রোধে চরম ব্যর্থতা ও ঢিলেঢালা ভাব প্রদর্শনের কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে এই কড়া সিদ্ধান্ত এসেছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া নরেশ পাল গ্যাংওয়ার এর আগে মৎস্য ও পশুপালন সংক্রান্ত বিভাগের সচিব এবং রাজস্থান রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। অপরদিকে দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়া ভিনীত জোশী অতীতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা পর্ষদের প্রধান এবং জাতীয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রথম শীর্ষ পরিচালক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টিসহ রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলোর চলমান তীব্র বিক্ষোভের সুবাদে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি ত্বরিত বিচার আদালত গঠনের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। একইসঙ্গে দ্রুত একটি নতুন আইন প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর আগামী সপ্তাহে আইনসভায় নতুন একটি বিল উত্থাপন ও পাসের চূড়ান্ত চেষ্টা চালানো হবে।