মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূবালী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে এক নারীর পথরোধ করে দিনে-দুপুরে বিপুল অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই অপরাধের মূল হোতা সেলিম আহমদ ওরফে ‘বটলা সেলিম’কে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা ইউনিট।
শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. জাফর হোসেন এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২২ জুন শমসেরনগর পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে রেহেনা বেগম নামের এক নারী এক লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নিজের বাড়ির দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে আলীনগর চা বাগান সংলগ্ন কালী মন্দিরের কাছাকাছি পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন দুষ্কৃতকারী সিএনজিটির গতিবিধি রোধ করে। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই নারীর কাছে থাকা নগদ টাকা ও ব্যাংকের চেকবই জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনায় পরদিনই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি দস্যুতার মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই মৌলভীবাজারের একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সেলিমকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর পিবিআইয়ের আভিযানিক দল চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে বাগে আনে। এ সময় অপরাধে ব্যবহৃত লাল রঙের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী শনাক্ত করেছেন।
পিবিআই প্রধান আরও জানান, গ্রেফতারকৃত ‘বটলা সেলিম’ একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, দস্যুতা ও রাহাজানির অভিযোগে অন্তত ৯টি মামলা চলমান রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি এই ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।