ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা তীব্র হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারই এক কোটির বেশি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে হিন্দু ভোটার আছেন ১ কোটি ১০ লাখ, খ্রিষ্টান ৩ লাখ ৬৫ হাজার, বৌদ্ধ ৭ লাখ ৯০ হাজার এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভোটার প্রায় ৩০ হাজার। নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শঙ্কাও বিরাজ করছে।
গত ২৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৫২২টি এবং চলতি বছরের শুরুতে ৪২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোটাররা নির্বাচনের সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, যে প্রার্থী বা দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে, সেই প্রার্থী বা দল তাদের সমর্থন পাবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাসউদ সংখ্যালঘু ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রতিটি নাগরিক যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে, তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা এবারও ভোটে অংশ নিয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।