কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে নিয়ে এক শিক্ষকের উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, শ্রীপুর ইউনিয়নের খেঁয়াইশ গ্রামের বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের নূরানী শাখার শিক্ষক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে নানাভাবে হয়রানি এবং প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীর স্বজনরা জানান, শিক্ষকের এই আপত্তিকর আচরণের বিষয়টি মেয়েটি তার পরিবারকে জানালে তার মা মাদ্রাসা প্রশাসনের কাছে মৌখিক প্রতিকার চেয়েছিলেন। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে ওই কিশোরী আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
পরিবারের দাবি, মাদ্রাসার ফটকের সামনে থেকে শিক্ষক আলমগীর হোসেন জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যান। এই ঘটনার পর থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েরই কোনো হদিস মিলছে না।
আশেপাশের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একবার এই ছাত্রীকে নিজ হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে সে যাত্রায় পরিবারের সদস্যরা বুদ্ধিমত্তার সাথে মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
এদিকে এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, যা শিক্ষক আলমগীর হোসেন ওই শিক্ষার্থীর পরিচিত এক নারীর কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই ভিডিওতে তাকে মেয়েটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাতে দেখা যায়।
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক আলমগীর হোসেনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলম জানান, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তবে এর আগে এই শিক্ষক বা ছাত্রীর বিষয়ে এমন কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ তার দপ্তরে আসেনি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, থানায় দায়ের করা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।