সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কুমিল্লায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কুমিল্লায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উপজেলার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম রাশিদা বেগম, যিনি ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে জানা যায়, মহেশপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে খোরশেদ আলম এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য রহিম সরকার পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধ চলে আসছিল। কিছু দিন আগে রহিম সরকার পক্ষের সদস্য মাওলা সরকার খুনের মামলার পলাতক আসামি দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগম গতকাল দুপুরে নিজের সাতটি গৃহপালিত গরু নিয়ে যাওয়ার জন্য এলাকায় আসেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি যখন গরুগুলো একটি পিকআপভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন রহিম সরকার পক্ষের সামাদ, রশিদ, শিরিনাসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল গাড়িটির গতি রোধ করে। তারা রাশিদাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এই সময় মায়ের প্রাণ বাঁচাতে তার দুই মেয়ে এগিয়ে এলে তাদেরও পিটিয়ে জখম করা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় রাশিদা বেগমকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের মামা সালাউদ্দিনের দাবি, পূর্বের শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার ভাগনিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল আলম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।