কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদিঘি গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন সীমান্ত এলাকার শূন্যরেখা থেকে রোকেয়া বেগম নামের এক পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওই নারী স্থানীয় গুচ্ছগ্রামের প্রয়াত আলী আশরাফের সহধর্মিণী ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে সীমান্ত এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় থানা প্রশাসন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকেয়া বেগম বেশ কিছু দিন যাবত মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার সকালের দিকে তিনি নিজ গৃহ থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর নিখোঁজ নারীর খোঁজে রাতের দিকে জগন্নাথদিঘি বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বরত জওয়ানদের অনুমতি নেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এরপর তারা সীমান্ত এলাকায় সন্ধান চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে রাত এগারোটার দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১৪১৩ নম্বর পিলারের সন্নিকটে ওই নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে বিজিবি ক্যাম্পে সংবাদ দেওয়া হয়। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে খবর পেয়ে মাঝরাতের দিকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল করিম জানান, নিহত নারীর একমাত্র সন্তান তার দেখভাল করতেন না। সকালে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বিজিবির কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সীমান্তের বাগান ও জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালাতে গিয়ে লাশটির সন্ধান পান। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ হোছাইন জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পরই কেবল মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
জগন্নাথদিঘি বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতের দিকে সীমান্তের নির্দিষ্ট পিলারের পাশে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে ক্যাম্পে খবর দেন। বিজিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।